ছেলেকে হারানোর বছর না ঘুরতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো মায়ের

শরীয়তপুরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নাজরীন সুলতানা শেলী নামে এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নাজরীন সুলতানা শেলী (৫০) শরীয়তপুরের আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসানের স্ত্রী। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২২ আগস্ট) সাধারণ জ্বর নিয়ে শরীয়তপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন নাজরীন সুলতানা শেলী। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে রোববার (২৩ আগস্ট) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার উত্তরা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। রোববার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নাজরীন সুলতানা শেলীর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আরেক দফা শোক। কারণ, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় তার ছোট ছেলে আলবাব রেজা রোহান নিহত হন। ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার মাকেও হারাল পরিবারটি।

বছর না ঘুরতেই একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

নাজরীন সুলতানা শেলীর ছেলে সাজিদ রাব্বি বলেন, আমার মা অসুস্থ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার উত্তরা মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করি। দুই দিন চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখনো আমার মা সুস্থ ছিল, আমার কাছে খেতেও চেয়েছে। এর পরপরই হঠাৎ স্ট্রোক করেন। তারপর চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়। পরে আজকে দুপুরে মা মারা গেছেন। অনেক চেষ্টা করেছি, মাকে বাঁচাতে পারলাম না।

আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ সাহা বলেন, নাজরীন সুলতানা শেলী অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন ভালো শিক্ষকও ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাও ছিল অনেক।

তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুতে আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাজরীন সুলতানা শেলী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। তার মৃত্যুতে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে হারিয়েছি আমরা।