নাটোরের সিংড়ায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যের। প্রায় ৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে চোর চক্রের ৫/৬ জন সদস্য একটি মিনি ট্রাক নিয়ে সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ পিছু ধাওয়া করলে আতঙ্কিত হয়ে ট্রাক থেকে হাবিবুর ও ফেরদৌস নামের দুই চোর ছোট চৌগ্রাম বাজার এলাকায় খালের পানিতে ঝাঁপ দেয়। তবে ট্রাকসহ বাকি সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর কচুরিপানার ভেতর থেকে ওই দুইজনকে বের করে আটক করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আতারামপুর গ্রামের কুদরত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহিপুর গোপালপুর গ্রামের মোস্তাকের ছেলে ফেরদৌস (২৬)।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত উপস্থিত হলে তার তত্ত্বাবধানে আটক দুইজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্থানীয় যুবক রাকিব বলেন, কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে তারা হয়তো পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর নজর এড়াতে পারেনি।
রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানায়, গত ১০ তারিখে গুনাগ্রাম থেকে ৩টি গরু চুরির মামলার সূত্র ধরে আজ ভোরে সিংড়ার চৌগ্রামে আমরা অভিযান চালাই। চোরেরা আমাদের গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ধাওয়া খেয়ে দুজন চোর কচুরিপানা ভরা পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান, সিংড়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুকুর থেকে ওই দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।