জামায়াত নেতাকে মারধর, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুস সবুর নামে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুরের স্ত্রী মোছা. শোহর ভানু বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জামায়াত নেতাকে মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামায়াতের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। লংমার্চের গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হামলায় আব্দুস সবুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তার পা, হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় নুরনবী নামে আরও এক জামায়াত নেতাকে কিল-ঘুষি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, গুরুতর আহত আব্দুস সবুরকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার। তার দাবি, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিএনপির কর্মী আল-আমিনকে কেন্দ্র করে। শনিবার দুপুরে আল-আমিন মোহনপুরের দিকে যাওয়ার সময় জামায়াতের কয়েকজন নেতা তাঁর ভিডিও করছিলেন। একপর্যায়ে জামায়াতের আমির সিরাজুল তাঁকে কলার ধরে ঘোরান এবং ছাতা দিয়ে মারধর ও কিল-ঘুষি দেন বলে দাবি করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও জামায়াতের লোকজনই প্রকাশ করেছে। পরে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ আব্দুস সবুরকে ধরে কিল-ঘুষি দেন। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। কাঠের চেলা দিয়ে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে এবং সে কারণেই শরীরে কেটে যাওয়ার মতো জখম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আব্দুস সবুরকে কুপিয়ে জখম করার প্রতিবাদে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। জেলা জামায়াতের নেতারা জানান, শহরের দরগারোডে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে অংশ নিতে এসে দুলাল হোসেন রোকনী নামে এক জামায়াত নেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, দুলাল হোসেন রোকনী খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক আমির ছিলেন। মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলা, আহত হওয়ার কারণ এবং মিছিলে জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।