সিলেটে ২ মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, ভিডিওতে মারধর দেখিয়ে টাকা দাবি

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী। নিখোঁজের পর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের দৃশ্য ভিডিও কলে দেখানোর পাশাপাশি ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো- তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। তারা দুজনই সিলেটের খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করে। তামিম দক্ষিণসুরমার বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।

অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফজরের নামাজের সময় দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্তও তারা নিখোঁজ ছিল।

সাঈদের বাবা বেবুল আহমদের মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরবিহীন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ভিডিও কলে সাঈদকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয় বলে দাবি করেন তাঁর বাবা। একই সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাঠিয়ে একটি বিকাশ নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা না দিলে সাঈদকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেবুল আহমদ বলেন, ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বাসায় পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে মাদ্রাসার শিক্ষক ফোন করেছিলেন। তখন তাঁরা জানান, সাঈদ বাড়িতে ফেরেনি। এরপর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দাবি করা হয়। অ্যাকাউন্টটিতে কোনো ফোন নম্বর দেখা যাচ্ছিল না এবং বারবার কল করলেও অপর প্রান্ত থেকে তা রিসিভ করা হয়নি।

তিনি বলেন, পরে ভিডিও কলে ছেলেকে মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয় এবং ভিডিও পাঠানো হয়। এরপর বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ দাবি করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার কাউকে না জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে যান। এবার তামিম ও সাঈদ একসঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের অভিভাবকদের জানানো হয়েছে।

তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, তার ছেলে এর আগেও দুবার মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিল। এবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেকে নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

শাহপরান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও তাদের অভিভাবকেরা জিডি করেছেন। তাদের ছবি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সাধ্যমতো তাদের সন্ধানে কাজ করছে।

ইমোতে টাকা দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, যে নম্বরটি দেওয়া হয়েছে, সেটি যাচাই করে দেখা হয়েছে। নম্বরটি প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে অনেক সময় প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, ইমোতে পাঠানো কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটি অস্পষ্ট। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

এমইউ
আরও পড়ুন