মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরীঅধ্যুষিত পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। বিকেল হলে পাড়াগুলো থেকে মৃদঙ্গের তালে মণিপুরী গান ভেসে আসছে। চলছে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য ও রাসনৃত্যের মহড়া।
সরেজমিনে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাঝেরগাঁও, শিমুলতলা ও বাঘবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পাড়াগুলোতে প্রায় রাস উৎসবের মহড়া চলছে। মহড়ায় আসা মণিপুরী ছেলেমেয়েদের রাসনৃত্যের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুন শিখিয়ে দিচ্ছিলেন রাসনৃত্যের শিক্ষকরা। সঙ্গে মৃদঙ্গ বাজিয়ে এবং গান গেয়ে সেই মহড়ার তাল দিচ্ছিলেন রনি সিংহ ও রীনা সিংহা। এতে প্রায় ২৫ জন ছেলেমেয়েকে মহড়া দিতে দেখা গেছে।
মহড়ায় অংশ নেওয়া মনিকা সিনহা বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখি। কিন্তু সবাই রাস উৎসবে অংশ নিতে পারে না। এ জন্য আমাদের অনেক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এখানে প্রায় ২০ দিন ধরে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মহড়া অংশ নিচ্ছি। আমরা সবাই ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মহারাসলীলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, রাস উপলক্ষে আমাদের পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি চলছে। প্রতি বছরের মতো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় ১৮২তম শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাসলীলা মণিপুরীদের আয়োজন হলেও সকলের আগমনে সম্প্রীতির বাঁধনে বেধে চলেছে এই উৎসব রাসলীলা, গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রেমপ্রীতির ঐতিহ্য দর্শন।
মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে কমলগঞ্জের মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।