মাত্র ১০৫০ টাকায় আপনার ৩ মাসের ‘গোপন জীবন’!

আপনার মুঠোফোনে গত তিন মাসে কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন, কোন সময়ে ফোন করেছেন এবং ফোন করার সময় কোন এলাকায় ছিলেন—এসব তথ্য কি ব্যক্তিগতই থাকে? বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশে অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনলাইনে সক্রিয় একটি চক্র ওয়েবসাইট, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে মানুষের মুঠোফোন-সংক্রান্ত গোপন তথ্য বিক্রি করছে।

শুধু সাধারণ নাগরিক নন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মুঠোফোনের তথ্যও এই চক্রের হাত থেকে নিরাপদ নয়। অনুসন্ধানে এমন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নম্বরের কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর সংগ্রহ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে একজন মন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার প্রধানও রয়েছেন।

৬ সেপ্টেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একজন মন্ত্রীর মুঠোফোন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহ করা হয় তাঁর তিন মাসের কল রেকর্ড। সেখানে কোন নম্বরে কখন কল করা হয়েছে, কতক্ষণ কথা হয়েছে এবং কলের সময় কোন মোবাইল টাওয়ারের আওতায় অবস্থান ছিল—এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।

পরদিন মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে সরবরাহ করা রেকর্ড তাঁর নিজের ফোনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তথ্য যাচাই করে মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। এত সহজে নিজের ফোনের তথ্য অন্যের হাতে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তাঁকেও উদ্বিগ্ন করে তোলে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, শুধু ওই মন্ত্রী নন, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নম্বরের সিডিআরও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে একটি সংবাদমাধ্যমের দুই কর্মীর নম্বরের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হলে রেকর্ডগুলো সঠিক বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

অনলাইনে তৈরি হয়েছে গোপন তথ্যের বাজার

মুঠোফোনের তথ্য বিক্রির বিষয়টি এখন আর গোপন কোনো লেনদেনে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যেই এসব সেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রচার।

অনুসন্ধানে পাওয়া একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের পর বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের সেবা তালিকাভুক্ত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বা সংগ্রহ, স্মার্ট এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, বায়োমেট্রিক তথ্য, লোকেশন, কললিস্ট, মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য এবং পাসপোর্টের এসবি কপিসহ নানা তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু ফোনে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে—এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় এই অবৈধ বাজার। ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান, আর্থিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সরকারি নথির তথ্যও অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে।

একটি সাইটে তিন মাসের সিডিআরের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা এবং ছয় মাসের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সামান্য কিছু টাকার বিনিময়েই একজন মানুষের কয়েক মাসের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার দাবি করছে চক্রটি।

ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও ব্যবহার করছে। সেখানে অর্ডার নেওয়া, টাকা পরিশোধ এবং তথ্য সরবরাহের কাজ চলে।

ফেসবুক থেকে টেলিগ্রাম—সবখানেই তৎপরতা

তথ্য বিক্রির এই কার্যক্রমের বিস্তার শুধু কয়েকটি ওয়েবসাইটে সীমাবদ্ধ নয়। ফেসবুকেও বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে সিডিআর, লোকেশনসহ নানা তথ্য সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপেও চলছে একই ধরনের লেনদেন।

গত ৩১ আগস্ট তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত ৬০০টির বেশি পোস্ট শনাক্ত করার তথ্যও উঠে আসে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়ে অনুসন্ধান করে কিছু মানুষের সিডিআর সংগ্রহ করেছিল একটি জাতীয় দৈনিক। নতুন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, সেই বাজার এখনো সক্রিয় এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত।

সিডিআরে আসলে কী থাকে?

সিডিআর বা কল ডিটেইলস রেকর্ডে সাধারণত একজন গ্রাহকের কল-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য থাকে। কে কাকে ফোন করেছেন, কখন ফোন করা হয়েছে, কতক্ষণ কথা হয়েছে—এসব তথ্য এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল টাওয়ারের তথ্য থাকায় একজন ব্যক্তি ফোনে কথা বলার সময় কোন এলাকার কাছাকাছি ছিলেন, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। ফোনের আইএমইআই নম্বরও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে থাকতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, সিডিআর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপের ভেতরে কী বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তা সরাসরি জানা যায় না। এসব অ্যাপের নিজস্ব যোগাযোগব্যবস্থা আলাদা।

তারপরও কারও কলের সময়, যোগাযোগের ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অবস্থানের ধারাবাহিক তথ্য একটি ব্যক্তির গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।

তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব অপারেটরদের

বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কল-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। গ্রাহকের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও আইনগত প্রয়োজনের কারণে এসব তথ্য নির্দিষ্ট সময় ধরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির কিছু বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী মানুষের প্রায় ৫৬ শতাংশ মুঠোফোন ব্যবহার করেন।

ফলে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য কোনো না কোনো পর্যায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত হচ্ছে। এই বিশাল তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা তাই শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

কারা তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারেন?

অপারেটরদের তথ্যভান্ডার ব্যবহারের সুযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১২টি সরকারি সংস্থার রয়েছে। তবে এ প্রবেশাধিকার নির্দিষ্ট আইন ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার আওতায় থাকার কথা।

গ্রামীণফোন ও রবির কাছে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হলে দুই প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, গ্রাহকদের তথ্যভান্ডারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের দাবি, আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যক্তিরাই এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পান।

তবে একটি মোবাইল অপারেটরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিছু সরকারি সংস্থার নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা অপারেটরের প্রচলিত অনুমোদন প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অপারেটরকে আলাদাভাবে তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনও নাও হতে পারে বলে তাঁর দাবি।

অপারেটর-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারা কখন তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করেছে এবং কী তথ্য নিয়েছে, তা শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে এ জন্য কার্যকর সরকারি তদন্ত ও নজরদারি প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাতেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি

একজন মানুষের কলের তথ্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের তালিকা নয়। দীর্ঘ সময়ের সিডিআর বিশ্লেষণ করলে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত, পরিচিতজন, কর্মস্থল, বাসস্থান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা সম্ভব।

ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরীর মতে, ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য একজন মানুষের মৌলিক গোপনীয়তার অংশ। এসব তথ্য সহজলভ্য হয়ে গেলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি মনে করেন, কোনো অপরাধী চক্র যদি কারও ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে, তাহলে সিডিআর ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির চলাফেরার ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যও যখন একইভাবে সংগ্রহ করা যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তখন বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়।

বিটিআরসির বক্তব্য

গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বিটিআরসির ভূমিকা রয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে কেনাবেচা হওয়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। চক্রটির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি বা ফাঁস হতে দেওয়া যায় না। বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তথ্য ফাঁসের ঘটনা বাড়ছে

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) গত মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি এবং ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।

বিভিন্ন ঘটনায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার নিয়েও একাধিকবার তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের এনআইডি তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও এনআইডির তথ্যভান্ডার নিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। ফলে তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জবাবদিহির চাপও যথেষ্ট তৈরি হয়নি।

‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্তের দাবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের মতে, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য যখন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয়, তখন তা শুধু গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারও জড়িত।

তাঁর মতে, কোথা থেকে তথ্য বের হচ্ছে, কারা এতে জড়িত এবং কোন ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ব্যবসা চলছে—এসব বিষয় দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন এখন একটাই

একজন সাধারণ নাগরিকের ফোনের তথ্য যদি মাত্র ১ হাজার টাকার কিছু বেশি অর্থের বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্যের হাতে পৌঁছে যেতে পারে, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনজীবী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য—কেউই কি পুরোপুরি নিরাপদ?

প্রশ্নটি এখন শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নয়। কোটি মানুষের যোগাযোগের তথ্য যদি একটি অনিয়ন্ত্রিত বাজারে চলে যায়, তাহলে এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে চাঁদাবাজি, হয়রানি, নজরদারি, প্রতারণা থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুতর বিষয়ও।

তাই অনলাইনে একটি নম্বর দিয়ে সিডিআর পাওয়ার দাবি সত্য কি না, সেটি যাচাইয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে—রাষ্ট্রের সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য বাইরে যাচ্ছে কীভাবে এবং কারা সেই তথ্যের ব্যবসা করছে, তার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত।

সূত্র: প্রথম আলো