ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জিতছি, হরমুজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে- এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া মূল বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম কমে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য আগের প্রশাসনগুলোর ‘সবুজ নীতি’কে দায়ী করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন দ্রুত খাদ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কমিয়ে এনেছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জিতলেই তেলের দাম কমতে শুরু করবে। আমরা জিতব। আমরা জিতছি। হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।

‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব

বক্তব্যের একপর্যায়ে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

রসিকতার সুরে ট্রাম্প বলেন, আমি নিশ্চিত, ইরানের নেতৃত্ব এতে খুবই খুশি হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘৫১ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি’

ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাদাগিরি’ করে এসেছে।

ট্রাম্প বলেন, “তারা ৫১ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি করেছে। কিন্তু এখন তারা আর সেই দাদাগিরি করতে পারছে না।”

তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন রিপাবলিকান পার্টি ২০২৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। ডালাসের সম্মেলনটিকে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অবশ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই জলপথের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, হরমুজ ঘিরে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রশ্নও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত