হানি ট্র্যাপের ফাঁদে পড়ে অর্থ ও সম্মান হারাচ্ছেন মানুষ

আধুনিক সমাজে 'হানি ট্র্যাপ' বা প্রেমের ফাঁদ হলো একটি সংঘবদ্ধ ডিজিটাল অপরাধের কৌশল, যেখানে যৌন আবেদন বা প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলা হয়।

সম্প্রতি দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রতারণার ফাঁদ, এগুলোর মধ্যে এক গ্রুপ আছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে নারী সঙ্গ পাওয়ার আহ্বান জানায়। পরে গোপনে ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

আবার কিছু চক্র সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। এই অপরাধী চক্রগুলো মূলত উঠতি বয়সী, ধনাঢ্য ও বিত্তশালীদের টার্গেট করে থাকে।

ইতোমধ্যে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ লজ্জায় পরিবার ও পুলিশকে সর্বস্ব হারানোর ঘটনা জানাতে পারছেন না। 

যেভাবে পাতা হয় ফাঁদ
হানি ট্র্যাপের কৌশল ভুয়া পরিচয় তৈরি: ইন্টারনেট বা অন্য কারও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আকর্ষণীয় ছবি বা ভিডিও চুরি করে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর টার্গেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়া হয়। এই অপরাধী চক্রগুলো মূলত উঠতি বয়সী, ধনাঢ্য ও বিত্তশালীদের টার্গেট করে থাকে।

ফেসবুক অথবা হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুত্বের পর শুরু হয় নিয়মিত চ্যাটিং। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর সাথে প্রেমের অভিনয় করে এবং দেখা করার জন্য ব্যাকুলতা দেখায়।

যখন ভুক্তভোগী নারী সদস্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তখন তাকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বাসায় বা নির্জন স্থানে দেখা করার জন্য ডাকা হয়। অনেক সময় কফিশপ বা শপিং মলে দেখা করার কথা বলে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী বাসায় ঢোকা মাত্র ওত পেতে থাকা চক্রের পুরুষ সদস্যরা সেখানে হাজির হয়। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ বা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায়। এরপর জোরপূর্বক নারী সদস্যের সাথে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও তুলে রাখে। এটিই হয় তাদের ব্ল‍্যাকমেইলের মূল অস্ত্র।

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে পড়েছেন যারা
‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অন্যতম লাভজনক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এ ফাঁদে বিশেষ করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যাংকার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল, অপহরণ ও অর্থ আদায়ের ঘটনা সামনে এসেছে।

এছাড়াও ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবাসিক হোটেলের কক্ষে আটকে রেখে মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ মিলেছে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি বেশির ভাগ শহর এলাকায় সক্রিয়। তারা নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে বিত্তশালী ও সমাজের নামিদামি পুরুষদের টার্গেট করে। পরে কৌশলে তাদের ডেকে এনে জিম্মি বা আটক করে রাখা হয়। এরপর জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।