রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বজনদের খোঁজ নিতে গিয়ে মরদেহগুলো দেখতে পান পূজা চক্রবর্তী। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং তাদের শিশু ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী।
পূজা চক্রবর্তী জানান, শনিবার রাতে বড় বোন প্রীতিলতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পান। এরপর ভগ্নিপতি গণপতি, ভাগনি আগামী ও শিশু প্রীয়মের ফোনেও কল করেন। কিন্তু কোনো ফোনেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান তিনি।
বাড়িতে গিয়ে দেখেন, পুরো বাড়ি অন্ধকার। কলিং বেল বাজিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পাশের একটি বাড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। জানালা দিয়ে মোবাইলের আলো ফেলতেই ঘরের ভেতর আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় ছড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন।
পূজা বলেন, ‘পরে তাদের বাড়িতে এসে দেখি, আমার ভাগনের লাশ খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার বড় বোনের ওপর ভাগনিকে ফেলে রাখা হয়েছে।’
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও ভাগনি আগামী তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল। এরপর শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পরিবারের চারজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে পূজা চক্রবর্তী বলেন, গণপতি চক্রবর্তী জেলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। অনেক কষ্ট করে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। এভাবে একটি পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়িটির নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে তিনি দোতলায় বসবাস শুরু করেন। নিচতলা ছিল ফাঁকা। নতুন এলাকায় বসবাস শুরু করায় প্রতিবেশীদের সঙ্গেও পরিবারের তেমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে পূজা চক্রবর্তী বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফটক বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশে সহায়তা করেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্রও তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটি ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকায় একদিনে গ্রেপ্তার ৪৭০, মামলা ৪০
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উইং কমান্ডার সাইফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে আজ