চার বছরেও শুরু হয়নি জবির প্রধান ফটকের সংস্কার কাজ

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। যা ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হয়। তবে বর্তমান ক্যাম্পাসের অধিকাংশ অবকাঠামোই কলেজ আমলের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকও সেই পুরোনো কাঠামোতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কলেজ আমলের এই ফটকে কেবল নামফলক পরিবর্তন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের উদ্যোগে প্রধান ফটক আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের মাধ্যমে নকশা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়। তবে বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সংস্কার কাজ শুরু করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক শুধু প্রবেশ ও বহির্গমনের পথ নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা ও স্বকীয়তার প্রতীক হিসেবেও প্রধান ফটক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আধুনিক ও পরিকল্পিত প্রধান ফটক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বর্তমান প্রথম গেইটের (১নং গেইট) জায়গা তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় সেটিকে দ্বিতীয় গেইট হিসেবে ব্যবহার করার কথা। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় বর্তমান দ্বিতীয় গেইটকে (ওয়াসি গেইট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রধান ফটক হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়। নতুন প্রধান ফটকটি আধুনিক নকশায় নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হলে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের আধুনিকায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ড. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নকশা ও অন্যান্য সব পরিকল্পনা সম্পন্ন করে অনেক আগেই সেটি অনুমোদন নিয়ে অর্থ দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে বাজেট সংকটে ফাইলটি ২০২৩ সাল থেকে আটকে আছে। এজন্য ফাইলটি পরে ইউজিসির বিশেষ একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে বাজেট পেলে কাজ শুরু করতে পারব।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এরকম থাকাটা মানানসই নয়। আমরা সরকারের অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, তারা এ বছর আমাদের বাজেট দিতে পারবেন। যদি তারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই অর্থ ম্যানেজ করে এ বছরই কাজ শুরু করব।