যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

হলিউডের ঝলমলে জীবন থেকে এবার খানিকটা দূরে সরে যেতে চান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিনের বাসস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। তবে আপাতত কোনো একটি দেশে থিতু হওয়ার পরিকল্পনা নেই তার। বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কিছুদিন ‘যাযাবর’ জীবন উপভোগ করতে চান তিনি।

ফ্যাশন সাময়িকী ল’অফিশিয়েলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছেন, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হওয়ার পথে। ছয় সন্তানই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ায় এখন নিজের জন্য নতুন জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।

বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলেও মায়ের স্মৃতি ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় যত্ন করে রেখে যেতে চান জোলি। অর্থাৎ দেশ বদলালেও নিজের শেকড় ও পারিবারিক স্মৃতিগুলো ধরে রাখার ইচ্ছা রয়েছে তার।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরও কাজ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না এই অভিনেত্রী। নিজের সৃজনশীল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ ও তার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ম্যাডক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন তিনি। শুরুতে কয়েক মাস কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন জোলি।

লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়ার ইচ্ছা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের মে মাসে শহরে নিজের ২ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সে সময় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, বহু বছর ধরেই লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন অভিনেত্রী।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে ব্যক্তিগত ইচ্ছার পাশাপাশি ছিল আইনি বাধ্যবাধকতাও। সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সন্তানদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জোলির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।

জোলি ও পিটের ছয় সন্তান, ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং যমজ ভিভিয়েন ও নক্স। গত জুলাইয়ে ভিভিয়েন ও নক্স ১৮ বছরে পা দেওয়ায় সেই বাধ্যবাধকতাও শেষ হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথাও আগেই জানিয়েছিলেন জোলি। গত আগস্টে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিবাহবিচ্ছেদের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে হচ্ছে।

ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।

এখন সেই অধ্যায়েরও ইতি। সন্তানদের দায়িত্ব, দীর্ঘ আইনি লড়াই আর হলিউডের ব্যস্ততার বাইরে নিজের জন্য নতুন এক জীবন খুঁজতে চান জোলি। সেই যাত্রার শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা ছাড়াই।