চোখ ভালো রাখতে যেসব সতর্কতা প্রয়োজন

চোখ আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট কোনো সমস্যাও যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে তা বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। অনেক সময় দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যায়, আবার কখনো ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ে। এসব পরিবর্তন আগে থেকে বুঝতে পারলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন।

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ধরন

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। যেমন -

  • সেন্ট্রাল ভিশন লস: চোখের মাঝখানের অংশে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা
  • পেরিফেরাল ভিশন লস: চারপাশের দিক বা কোণের দৃষ্টি কমে যাওয়া
  • সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা: পুরোপুরি দেখতে না পারা
  • নাইট ব্লাইন্ডনেস: কম আলো বা অন্ধকারে দেখতে সমস্যা
  • ঝাপসা দৃষ্টি: কুয়াশার মতো বা অস্পষ্টভাবে দেখা, শুধু ছায়া বা আকার বোঝা

হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

মাইগ্রেন

মাইগ্রেনের রোগীদের একটি বড় অংশের চোখে ভিজ্যুয়াল সমস্যা দেখা যায়। জিগজ্যাগ আলো, ঝিলিমিলি দেখা, টানেলের মতো দৃষ্টি বা এক পাশের দৃষ্টি হঠাৎ কমে যেতে পারে। সাধারণত এই সমস্যা ১০ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়।

কেরাটাইটিস

চোখের কর্নিয়ায় প্রদাহ হলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। চোখে ব্যথা ও লালভাবও থাকতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় এটি সেরে যায়।

কনজাঙ্কটিভাইটিস বা পিঙ্ক আই

চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা ও ঝাপসা দেখার পাশাপাশি সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে সংক্রমণ হলে চিকিৎসা দরকার হয়।

চোখের ক্লান্তি

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ দূরে তাকানো উপকারী।

চোখে আঘাত

চোখে আঘাত লাগলে দৃষ্টিশক্তি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

য়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন

৫০ বছরের পর অনেকের চোখের মাঝখানের দৃষ্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।

গ্লুকোমা

চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে চারপাশের দৃষ্টি কমে যায়। শুরুতে তেমন লক্ষণ না থাকায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা জরুরি।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত পরীক্ষা করলে আগেভাগে ধরা সম্ভব।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দেরি করা উচিত নয়। নিচের লক্ষণগুলোর যে কোনোটি দেখা গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন—

  • তীব্র মাথাব্যথা
  • কথা বলতে অসুবিধা
  • মুখ বেঁকে যাওয়া
  • শরীরের এক পাশে দুর্বলতা
  • চোখে তীব্র ব্যথা
  • কীভাবে চোখের যত্ন নেবেন
  • চোখকে বিশ্রাম দিন: স্ক্রিন ব্যবহার করার সময় নিয়মিত বিরতি নিন
  • সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করুন: খেলাধুলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে চোখ ঢেকে রাখুন
  • সানগ্লাস পরুন: রোদে বের হলে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করুন
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন: সমস্যা না থাকলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান
  • পুষ্টিকর খাবার খান ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন: এতে চোখ সুস্থ থাকে

চোখের সামান্য পরিবর্তনকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। সব ধরনের দৃষ্টিশক্তি হারানো প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা চোখ ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত যত্ন নিলে দীর্ঘদিন সুস্থ দৃষ্টি বজায় রাখা সম্ভব। সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে