পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত ও সিয়াম পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার গ্রহণ না করার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে ডিহাইড্রেশন থেকে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, সেহরি ও ইফতারে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. পানি পানে সঠিক রুটিন
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাকে পানি পানের জন্য সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেহরিতে কমপক্ষে ১-২ গ্লাস পানি পান করুন। সারারাত জেগে থাকার সময় অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন। তবে মনে রাখবেন, খাবারের মাঝে বা ঠিক পরপরই প্রচুর পানি পান করা উচিত নয়; এতে হজমে বিঘ্ন ঘটে। খাবার ও পানি পানের মধ্যে অন্তত ২০ মিনিটের বিরতি রাখা শ্রেয়।
২. খাদ্যতালিকায় থাকুক পানিসমৃদ্ধ খাবার
কেবল সরাসরি পানি পান করলেই হবে না, বরং খাবারেও আনতে হবে পরিবর্তন। শসা, লেটুস এবং মৌসুমি ফলের মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া:
- তরল খাবার: সেহরি বা ইফতারে স্যুপ এবং মসুর ডাল জাতীয় খাবার রাখুন।
- প্রাকৃতিক পানীয়: ডাবের পানি পটাশিয়াম ও খনিজ উপাদানের দারুণ উৎস, যা দ্রুত পানির ঘাটতি পূরণ করে।
- স্মুদি ও শরবত: ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস বা স্মুদি শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে।
৩. ক্যাফেইন ও অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন
কিছু খাবার ও পানীয় শরীরকে আরও দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে। চা, কফি বা কোমল পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন বারবার প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে, ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া, প্রক্রিয়াজাত এবং লবণাক্ত খাবার তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। তাই রমজানে এসব খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. হালকা গরম পানির সুফল
তীব্র গরমে ইফতারে বরফ-ঠান্ডা শরবত বা পানি পানের প্রবল ইচ্ছা জাগলেও, শরীরের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে। এর পরিবর্তে হালকা গরম পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হালকা গরম পানি দ্রুত শোষিত হয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
৫. অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকা
রোজার সময় দিনের বেলা খুব বেশি পরিশ্রম বা রোদে ঘোরাঘুরি করা এড়িয়ে চলা উচিত। এতে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার বিপজ্জনক লক্ষণগুলো জেনে নিন
লিভার সুস্থ রাখতে নিম পাতার ব্যবহার
