আপনি হয়তো অলস জীবন ছেড়ে নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা শুরু করেছেন। নিয়ম মেনে ব্যায়াম করছেন, কিন্তু দিনশেষে নিজেকে শক্তিশালী ভাবার বদলে উল্টো ক্লান্ত আর দুর্বল মনে হচ্ছে? অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ ব্যায়াম করার পরও শরীর আগের মতোই অচল লাগে এবং প্রতিটি ধাপ পার করা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।
ব্যায়াম সহজ হওয়ার বদলে কেন এটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে ৫টি প্রধান কারণ থাকতে পারে যা আমরা প্রায়ই এড়িয়ে যাই।
১. শরীরের নমনীয়তা বা মবিলিটির অভাব
যদি আপনার শরীরচর্চায় কেবল শক্তি বা গতির ওপর জোর দেওয়া হয় এবং জয়েন্টগুলোর নমনীয়তার (Mobility) দিকে খেয়াল না রাখা হয়, তবে শরীর নড়াচড়া করতে অনেক বেশি শক্তির অপচয় করে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যায়াম করার সময় শরীরের এক পাশে বেশি চাপ লাগে, তবে বুঝতে হবে আপনার মবিলিটিতে ঘাটতি আছে। এর ফলে ব্যায়াম সহজ হওয়ার বদলে শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
২. শরীরের সঠিক ভঙ্গি বা অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকা
ব্যায়ামের সময় শরীরের পোজ বা ভঙ্গি ঠিক থাকা জরুরি। যেমন—ব্যায়াম করার সময় বুক ফুলিয়ে শ্বাস নেওয়া বা মেরুদণ্ড অতিরিক্ত বাঁকিয়ে রাখা আপনার কোর মাসলকে (Core Muscle) দুর্বল করে দেয়। সঠিক ভঙ্গিতে ব্যায়াম না করলে আশেপাশের পেশিগুলোকে অতিরিক্ত খাটতে হয়, ফলে অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন আপনি।
৩. স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষা কবজ বা প্রটেক্টিভ টেনশন
যখন শরীরের কোনো জয়েন্ট বা অঙ্গ অস্থিতিশীল থাকে, তখন আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে চোট থেকে বাঁচাতে পেশিগুলোকে শক্ত করে ফেলে। একে বলা হয় ‘প্রটেক্টিভ টেনশন’। এই টান বা শক্ত ভাব আপনার স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ব্যায়াম করাকে অনেক বেশি কষ্টসাধ্য করে তোলে।
৪. ভুল শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি
অনেকে ব্যায়াম করার সময় মুখ দিয়ে দ্রুত শ্বাস নেন বা শ্বাস আটকে রাখেন। এটি আপনার শরীরের শক্তি দ্রুত কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের সময় নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নেওয়া এবং পরিশ্রমের সময় ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়া উচিত। সঠিক অক্সিজেন সরবরাহ না হলে ব্যায়াম কখনোই সহজ হবে না।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব
ব্যায়ামের আসল ফল পাওয়া যায় বিশ্রামের সময়। যদি আপনি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেন কিন্তু শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় বা ঘুম না দেন, তবে পেশিগুলো আর সচল হতে পারে না। অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ‘ওভারট্রেনিং সিনড্রোম’ আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ব্যায়ামকে বিভীষিকায় পরিণত করে।
ব্যায়াম শুরুর আগে অন্তত ১০-১৫ মিনিট ওয়ার্মআপ এবং মবিলিটি ড্রিল করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নজর দিন এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন পূর্ণ বিশ্রাম নিন। মনে রাখবেন, শরীরকে সময় দিলে তবেই সে আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে।