স্ট্রবেরি এখন আর বিদেশি ফল নয়, আমাদের দেশেও এটি বেশ জনপ্রিয়। এর আকর্ষণীয় রঙ ও টক-মিষ্টি স্বাদ সব বয়সীদের প্রিয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি কি তাদের জন্য নিরাপদ?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে স্ট্রবেরি অনায়াসেই উপভোগ করতে পারেন। সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরি কেবল সুস্বাদুই নয়, এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কার্যকর।
গবেষণা কী বলছে?
‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্ট্রবেরি খেলে প্রি-ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীরের প্রদাহ কমে। ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ স্ট্রবেরি খাওয়ার ফলে অংশগ্রহণকারীদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্লুকোজের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে ওকলাহোমা মেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক গবেষণাতেও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে স্ট্রবেরির ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্ট্রবেরি কেন উপকারী?
১. কম গ্লাইসেমিক সূচক (Low GI): স্ট্রবেরি ‘লো-জিআই’ বা কম গ্লাইসেমিক সূচক সম্পন্ন ফলের তালিকায় পড়ে। এর মানে হলো, এটি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না।
২. উচ্চ ফাইবার: এক কাপ স্ট্রবেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে শর্করা শোষিত হয় ধীরে ধীরে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

৩. প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্থোসায়ানিন শরীরে প্রদাহবিরোধী কাজ করে। এটি রক্তনালীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্ট্রবেরিতে ক্যালরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনো ফলই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। তাই প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেটের হিসাব ঠিক রেখে একজন ডায়াবেটিস রোগী নিশ্চিন্তে তার খাদ্যতালিকায় স্ট্রবেরি রাখতে পারেন।
যেসব খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে
ওজন কমানোর ওষুধেই কি কাটবে মাদকের নেশা
