বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগ। সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা কিংবা বাঁহাতে যন্ত্রণাকেই আমরা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, রক্তনালীতে বড় ধরনের জটিলতা বা হার্ট অ্যাটাক ঘটার আগে মানবদেহে কিছু সূক্ষ্ম ও নিরব সতর্কবার্তা প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ৩টি নীরব লক্ষণ আগে থেকেই সতর্ক করে -
১. পুরুষদের যৌন দুর্বলতা (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন)
হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতে (কোরোনারি আর্টারি) চর্বি জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আগেই পুরুষাঙ্গের তুলনামূলক সরু ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো হৃদরোগ ধরা পড়ার কয়েক বছর আগেই এই লক্ষণটি প্রকাশ পায়।
২. সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত হাঁপিয়ে ওঠা
অল্প হাঁটাহাঁটি, সামান্য সিঁড়ি ভাঙা বা হালকা কাজে অসময় ডায়াবেটিস বা ক্লান্তি না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ বুক ধড়ফড় বা দম আটকে আসার অনুভূতি হলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ডিসপনিয়া’ (Dyspnea) বলা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়া বা হার্ট ফেলিয়রের লক্ষণ হতে পারে।
৩. পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় দীর্ঘস্থায়ী ফোলা ভাব
টানা বসে থাকার কারণ ছাড়াও যদি প্রতিনিয়ত পা বা গোড়ালিতে তরল জমে ফুলে যায় (এডিমা), তবে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সঞ্চালন করতে না পারলে কিংবা কিডনির কর্মক্ষমতা কমলে এমনটা ঘটে। হার্ভার্ড হেলথসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব লক্ষণকে বয়সজনিত সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে গেলে পরবর্তীতে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই এমন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।