রমজানে ঘুমের সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

রমজান মাস এলেই বদলে যায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। সাহরি, ইফতার, তারাবিহ ও রাত জাগার কারণে অনেকের ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে পড়ে। ফলে অনিদ্রা, সারাদিন ঝিমুনি ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট কারণেই রমজানে ঘুমের সমস্যা বেশি দেখা যায়, তবে সচেতনতা ও সঠিক রুটিন মানলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কেন হয় ঘুমের সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে ঘুমের ব্যাঘাতের প্রধান কারণ হলো দৈনন্দিন সময়সূচির হঠাৎ পরিবর্তন। সারা বছর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও সাহরির জন্য গভীর রাতে ওঠা এবং তারাবিহ শেষে দেরিতে ঘুমানো শরীরের জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে।

ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও ঘুমের সমস্যা বাড়ায়। এসব খাবার হজমে সময় নেওয়ায় বুকজ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি হয়, যা রাতে ঘুম ব্যাহত করে।

এ ছাড়া ইফতার বা রাতের খাবারের পর চা, কফি ও মিষ্টি পানীয় গ্রহণ স্নায়ুকে উত্তেজিত করে ঘুম আসতে দেরি করায়। তারাবিহ শেষে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভি ব্যবহারে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে ঘুম গভীর হয় না।

অনেকে রাতে কম ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে দিনে বেশি সময় ঘুমান, এতে ঘুমের চক্র আরও বিঘ্নিত হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কী করলে উপকার মিলবে

ঘুমের সমস্যা কমাতে চিকিৎসক ও ঘুম বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • রমজানের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস তৈরি করা
  • ইফতার ও রাতের খাবার হালকা রাখা, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে চলা
  • ইফতারের পর ক্যাফেইন কমানো এবং প্রয়োজনে হারবাল চা বা গরম দুধ গ্রহণ
  • ঘুমানোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা
  • দিনে প্রয়োজন হলে স্বল্প সময় (২০–৩০ মিনিট) বিশ্রাম নেওয়া
  • ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানে ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও অবহেলা করলে তা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক রুটিন মেনে চললে রমজান মাস কাটতে পারে আরও সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে।