রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই সিয়াম সাধনার মাসে সুস্থ থাকাটাই রোজাদারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্তমানের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অটুট রাখতে ইফতার ও সাহ্রিতে সঠিক খাবার নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
ইফতারে ‘না’ বলুন ভাজাপোড়াকে
বাঙালি সংস্কৃতির ইফতার আয়োজনে বেগুনি, পিয়াজু কিংবা চপ অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিচারে এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর ডুবো তেলে ভাজা এসব খাবার খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে:
- হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক: উচ্চ ক্যালরি ও ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়।
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: অতিরিক্ত চিনি ও লবণের উপস্থিতিতে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
- হজমের জটিলতা: তেলসমৃদ্ধ খাবার বুক জ্বালাপোড়া ও বদহজমের প্রধান কারণ।
- ক্যানসার ঝুঁকি: খাবার আকর্ষণীয় করতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ বা রাসায়নিক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আদর্শ ইফতার কেমন হওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার হওয়া উচিত সহজপাচ্য এবং কম তেল-মসলাযুক্ত। সারাদিনের পানিশূন্যতা রোধে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করা উচিত।
বিকল্প ও পুষ্টিকর তালিকা:
- ভাজা ছোলার বদলে: অঙ্কুরিত ছোলার সঙ্গে শসা, টমেটো, লেবু ও কাঁচা রসুন কুচি মিশিয়ে সালাদ তৈরি করা যেতে পারে।
- তরল খাবার: লাল চিড়া ও টক দই, ওটস, বার্লি বা দুধ-ডিমের পুডিং শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়।
- সবজি ও প্রোটিন: মুরগির মাংস ও বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ বা কম মসলার হালিম হতে পারে চমৎকার বিকল্প।
রাতের খাবার ও সাহ্রির সতর্কতা
অনেকেই রাতের খাবার বাদ দিয়ে সরাসরি সাহ্রি খান, যা একটি ভুল অভ্যাস। রাতে হালকা কিন্তু সুষম খাবার (যেমন: লাল আটার রুটি বা ভাত, সবজি, মাছ বা মাংস) গ্রহণ করা উচিত। রাতের খাবারের পর টক দই খেলে তা শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
সাহ্রিতেও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবে, যেন সারাদিন শরীর সতেজ থাকে। নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করা সহজ ও আনন্দদায়ক হবে।
৭ কারণে রোজা ভেঙে যায়
ভাইরাল সংক্রমণ ও দূষণে বাড়ছে ‘ভয়েস চেঞ্জ’ ঝুঁকি
