পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় রোজাদারদের দৈনন্দিন রুটিনে এসেছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এবং ঘুমের সময় বদলে যাওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে অনেকেরই ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে দুপুরের পর ঝিমুনি ভাব কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে রোজা রেখেও অফিসের কাজে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব।
কাজের উদ্যম বজায় রাখতে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. সেহরিতে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার
সারাদিনের শক্তির উৎস হলো সেহরি। তাই সেহরিতে লাল চালের ভাত, ওটস বা আঁশযুক্ত খাবারের মতো জটিল শর্করা এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা জরুরি। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা বা কফি) এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে। এছাড়া সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঘুম ও বিশ্রামের সঠিক সমন্বয়
মনোযোগ ধরে রাখার প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত ঘুম। তারাবি ও সেহরির কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হয়, তা পূরণে রাতে এবং সেহরির পর অফিস শুরুর আগ পর্যন্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। ঘুমের অভাব থাকলে সারাদিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়।
৩. কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ (Prioritization)
রোজার দিনে সকালের দিকে শরীরের শক্তি বেশি থাকে। তাই সবচেয়ে কঠিন, সৃজনশীল বা জটিল কাজগুলো অফিসের প্রথম ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন। দুপুরের পর যখন ক্লান্তি বাড়তে থাকে, তখন হালকা ও কম চাপের কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) হাতে রাখুন।
৪. নামাজের বিরতি ও মানসিক প্রশান্তি
অফিসের জোহরের নামাজের বিরতিটিকে কেবল ইবাদত নয়, বরং শরীর ও মনের ‘রিফ্রেশমেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করুন। নামাজের পর কিছুক্ষণ নিরিবিলি বসে থাকা বা হালকা পায়চারি করা মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে।
৫. ডেস্কের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক আলো
এলোমেলো কাজের পরিবেশ মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই ডেস্কটি পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখুন। জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করতে দিলে তা মনকে প্রফুল্ল রাখতে এবং ঝিমুনি কাটাতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৬. শ্বাসের ব্যায়াম ও স্বল্প বিরতি
টানা বসে কাজ না করে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। কাজের চাপে ক্লান্ত বোধ করলে চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। এটি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে মনোযোগ ফেরাতে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় আড্ডা এড়িয়ে শক্তি সঞ্চয় করাও বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
রোজা কেবল ত্যাগের মাস নয়, এটি শৃঙ্খলারও মাস। পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই কর্মক্ষেত্রে আমাদের দক্ষতা বজায় রাখতে পারি।