সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুশাসন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। তিনি তার বক্তব্যে ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিএমএতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন ব্যাটালিয়ন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ (ভাটিয়ারি), বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই কোর্সের মাধ্যমে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন, যার মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী অফিসার রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিন, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের ৭ জন বিদেশি ক্যাডেটও এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। এছাড়া সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জিওসি (আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), বিএমএ কমান্ড্যান্ট, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডারসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং ক্যাডেটদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজ শেষে অভিভাবকেরা নবীন অফিসারদের আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাপ্রধান।