গুজরাটের সৌরাষ্ট্রে বল্লভী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখি বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন মুখি আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়।পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়। যাহোক এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়- শিক্ষা-কার্যক্রম  সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

vallabi

বল্লভী বিশ্ববিদ্যালয় 

ষষ্ঠ শতাব্দীতে  আধুনিক গুজরাটের সৌরাষ্ট্রে  বল্লভী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়  এবং দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিকশিত হয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ও ইয়তসিং সপ্তম শতাব্দীতে বল্লভী বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম স্থান বলে বর্ণনা করেন। এটি ছিল মূলত প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র।

মৈত্রক রাজ বংশের শাসনামলে  এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যা ছিল হীনযান বৌদ্ধ ধর্মের পীঠস্থান। এছাড়া ও এখানে তর্কশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন,কৃষি  এবং ব্যবহার মতো বিষয়গুলোর পাঠদান করা হতো।

গুণমতি ও স্থিরমতি বৌদ্ধ ধর্মের দুই প্রথিতযশা পণ্ডিত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন পূর্ণ করেন।

vallabi

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার উন্মুক্ত ও বহুমাত্রিক বিদ্যার্থীদের জন্য ভুবনজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক স্নাতককে তাদের জ্ঞান,প্রজ্ঞা ও দক্ষতার কারণে বিভিন্ন বিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত করা হন।

৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে আরবদের আক্রমণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মৈত্রক রাজ বংশের পতনের কারণে দ্বাদশ শতাব্দীতে এর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে এবং প্রগতিশীল  শিক্ষা বিস্তারের কারণে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিদ্যার্থীরা জ্ঞান অর্জন করতে ভীড় জমাতো।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক 
চেয়ারম্যান (অব) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।