প্রাচীন ভারতের বিস্মৃত জ্ঞানপীঠ পুষ্পগিরি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিলো তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিক-শিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিলো অনুকরণীয়। যাহোক এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

তৃতীয় শতকে পুষ্পগিরি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাচীন ভারতের কলিঙ্গ রাজ্যে (যা বর্তমানে আধুনিক উড়িষ্যা নামে বহুল পরিচিত) স্থাপিত হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালটি কুট্টাক এবং জয়পুর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিলো। ৮০০ বছর ধরে জ্ঞান সাধনার উন্মেষ ঘটিয়ে ১১ শতকে এসে লয়প্রাপ্ত হয়। ঐতিহাসিকরা বলছেন, তিনটি পর্বতের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনটি বিস্তৃত ছিলো। পর্বতগুলোর নাম যথাক্রমে ললিতগিরি, উদয়গিরি ও রত্নাগিরি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তখনকার সময়ে তক্ষশীলা, নালন্দা এবং বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা হতো।

পাথরের গায়ে খোদাই করা নকশা

প্রাচীন ভারত তথা পৃথিবীর অনেক দেশেই পুষ্পগিরি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো। ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দের অন্যতম পুরাতন স্থাপত্য কর্ম রয়েছে ললিতগিরিতে। নৃতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদরা মনে করছেন, সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় পুষ্পগিরি বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিলো।

YA/SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত