প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়।পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখি বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন মুখি আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়।পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়। যাহোক এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়- শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।
ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়
ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়টি সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে পাল রাজা গোপাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বেদবীর আরিয়ার প্রাচীন গ্রন্থে ও ভারতীয় ক্রনলজিতে(৬১৮খ্রি. - ৬১৯ খ্রি.) গোপালের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেখানে একটি শিলালিপিতে চামেন্দা শাসকের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় সম্পর্কে বলা আছে।ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যার্থীদের আকৃষ্ট করেছিল ঠিকই কিন্তু নালন্দা বা বিক্রমশীলার মতো খ্যাতি অর্জন করতে পারেনি।
তিব্বতীয় উৎসানুসারে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২০০০ শিক্ষার্থী শিক্ষক সমম্বয়ে নানা বিষয়ে পঠন পাঠন চলতো। পণ্ডিতবৃন্দ বৈদিক শাস্ত্র ও বৌদ্ধ ধর্ম দর্শনের জ্ঞান ছাড়াতেন। বলা হয়ে থাকে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার লাভে ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। শ্রী আচার্য গঙ্গা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন। তিব্বতের বিদ্যার্থীরাও এই বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
প্রাচীন বাংলা ও মগধে পাল রাজাদের আমলে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ বিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। বিক্রমশীলা,,নালন্দা,সোমপুর,ওদন্তপুরী ও জগদ্দল অন্যতম। এই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল পরস্পর সম্পর্কিত।
পাল সাম্রাজ্যের অধীনে পূর্ব ভারতে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একটিমাত্র নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচিত হতো।এমনকি বিখ্যাত পণ্ডিতদের পদ পদবীর উপর ভিত্তি করে আন্ত বিশ্ববিবিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই আচার্য,মঠাধ্যক্ষ,মহাচার্য, মহাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষই ছিলেন বাঙালি। বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান(৯৮২খ্রি.--১০৫৪) এই ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন বলে জানা যায়।
প্রফেসর ড.অলীউল আলম
শিক্ষক ও গবেষক
চেয়ারম্যান (অব) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।