জামায়াত আমির

আমরা দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, দেশ ছেড়ে যাইনি

বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দফায় দফায় জেলে গিয়েছি কিন্তু দেশ ছেড়ে যাইনি। আমরা দেশ থেকে কখনো যাবো না। আমরা জুলাই বিপ্লবের পরে প্রত্যেক শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তাদের চোখে পানি দেখিনি দেখেছি রক্তের ফোঁটা। তাদের কারণে আজ আমরা মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু একটি দল জুলাইকে ধারণ করে না।‘

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গনে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধাান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল বলছে, তারা ক্ষমতায় গেলে নাকি মহিলাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবে। আবার তারাই মহিলাদের গায়ে হাত তুলছে। তার মানে ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে গায়ে হাত।’ যদি কোনো মা-বোনের সম্মানহানি করে, বেইজ্জতি করে তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’ আপনাদের যারা সম্মান করে তাদের জন্য আপনারা দোয়া করবেন। তিনি বলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে নারী শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যন্ত ফ্রি পড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লাকে বিভাগ ও কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর চালু করবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আগে যারা ক্ষমতা ছিলেন তারা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে। বিগত সময়ে জামায়াতকে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আপনারা গুম কমিশনের রিপোর্টে দেখেছেন সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

জামায়াত আমির বলেন, ‘মিডিয়া জাতির বিবেক। জোর করে দেশটাকে অন্যায়ের পক্ষে চাঁদাবাজির পক্ষে থাকবেন না। আপনারা আপনাদের হাউজের পলিসিমেকারদের বুঝান। আমরা কারোর ওপরে প্রতিশোধ নিবো না। চাঁদাবাজি করবো না, মামলা দিয়ে হয়রানি করবো না বলেছি। আমরা কথা দিয়ে কথা রেখেছি। কাউকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি।

এসময় তিনি কুমিল্লার ১১ আসনের জোটের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও দেয়াল ঘড়ি প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে বিজয়ী করতে বলেন।

কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের জামায়াতের  প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। 

তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে জামায়াতের আমিরকে দেশনেতা উপাধিতে ভূষিত করতে চাই। এবার নতুন নেতার নেতৃত্বে আগামীতে দুর্নীতি দূর হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে দ্রত সময়ের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ করবো ও কুমিল্লা বিমান বন্দর চালুর করবো ইনশাআল্লাহ। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো: গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। একটি দল বারবার ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কল্যাণের নামে মানুষ হত্যা করছে। শেরপুরের জামায়াতের রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।  

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেন, ‘আমরা ৫৪ বছরের বৈষম্য দূর করতে হবে। ঘরে ঘরে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়  করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। 

বক্তব্য রাখেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কাইয়ুম, কুমিল্লা -৪ আসনের এনসিপি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, কিছু মিডিয়া হাউজগুলো তারেক রহমানের দালালি শুরু করেছে। বিশেষ করে ৭১ টেলিভিশন, ডিবিসি টেলিভিশন, সময় টেলিভিশন জুলাই বিপ্লবের আগে তারেক রহমানকে বিভিন্ন টকশোতে দেশদ্রোহী বানিয়েছিল। এখন তারেক রহমান তাদের বন্ধু। বিএনপি এখনো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ এর পক্ষে কোনো কথা বলছে না। জুলাই বিপ্লবের ১৫ মাস পরে একজন নেতা এসে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে আর তাদের কর্মীরা আমাদের মা বোনদের হিজাব টানাটানি করছে।

আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ ডক্টর মু. শফিকুল আলম হেলাল, কুমিল্লা-৫ (ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মোবারক হোসাইন, কুমিল্লা-৭( চান্দিনা) আসনের খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো: সোলাইমান খাঁন, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নাজিম উদ্দীন মোল্লা, কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগর নায়েবে আমির মো: মোছলেহ উদ্দিন, সেক্রেটারি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মু. মুজিবুর রহমান ভূইয়া, এনসিপি কুমিল্লা অঞ্চল সমন্বয়ক নাভিদ নৌরজ শাহ, কুমিল্লা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশারফ হোসাইন, নাছির আহমদ মোল্লা প্রমুখ। নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত ও শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।