ডা. শফিকুর রহমান

৬ দফা না মানলে অজুহাত ছাড়াই বৃহত্তর আন্দোলন

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে সতর্ক করে কঠোর হুশিয়ারি দেন।

তিনি স্পষ্ট জানান, ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে দেশে ঈদ কিংবা অন্য কোনো অজুহাত ছাড়াই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। 

বর্তমান সরকারও আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই হাঁটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সাথে প্রতারণা করে অপরাধী ও দুর্নীতিবাজরা কখনো পার পাবে না।

অনির্বাচিত প্রশাসকদের নিয়োগ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সার সংকট, ভূতুড়ে বিল এবং গুম-হত্যার বিচার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। 

তিনি শাপলা চত্বর, পিলখানা ও ২৪-এর জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৭০% মানুষের গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

নেতারা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে বাকশালের চেয়েও ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে অনতিবিলম্বে ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ার তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্য দেন। 

এ ছাড়া এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজপথে রাজকীয় গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিকেল থেকে রূপ নেওয়া বিশাল এই জনসমুদ্রে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী ও দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ বিভিন্ন সচেতনতামূলক গান ও নাটিকা পরিবেশন করে। 

সমাবেশ থেকে উত্থাপিত ৬ দফা দাবি আদায়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনকে এক দফায় রূপান্তরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।