ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য

সম্প্রতি মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিল বিসিবি। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে বিসিবি সিইও–কে (প্রধান নির্বাহী) ফোনকলে সেই নির্দেশনা উঠিয়ে নেওয়ার আহবান জানান আমিনুল হক। সেই ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এক টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।

আসিফ বলেছিলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যারা (গণমাধ্যমকর্মী) আছেন, তারা তো (বিসিবিতে বা মিরপুর স্টেডিয়ামে) আসবেনই। আমরা পোর্টফলিও চেক করি, কারা গুজব ছড়ায় না, কারা ফালতু কাজ করে না। তাদেরকে আমরা ডেকে এনে বসব (এমন প্ল্যান ছিল)। এই সময়ের আগে আবার ফারুক ভাইয়ের আঙুলের (বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের আঙুল উঁচিয়ে ধরা ছবি ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যম মারফতে) ঘটনাটা ঘটল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে এসে ফাটাকেস্ট’র মতো একটা অর্ডার দিয়ে দিলেন। সবকিছু মিলিয়ে ব্যাপারটা লেজেগোবরে হয়ে গেছে।’

এ নিয়ে সাবেক বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইন্টেনশনালি (এমন কথা বলেছেন) কি না আমি এটা বলতে পারব না। তবে এরকম দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথাবার্তা বুঝেশুনে বলা উচিত। বিসিবির মতো সংস্থার মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড আছে। কথা বের হয়ে গেলে তো বের হয়ে গেল। আমাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য অবশ্যই অপ্রত্যাশিত। আগেও আমরা বিসিবি পরিচালকদের কাছ থেকে অনেক ধরনের বেফাঁস মন্তব্য শুনেছি। অনুরোধ জানাব তারা এগুলো থেকে বিরত থাকুক।’

এমন বেফাঁস মন্তব্যের মতো ঘটনা অন্য কোনো দেশে ঘটে কি না সেই প্রশ্নও তোলেন বিসিবির এই পরিচালক, ‘এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও হয়নি। স্পোর্টসের ইতিহাসে অন্য কোনো সভ্য দেশে এটা হয়েছে কি না তাও আমার জানা নেই। এটা হওয়ার কথা না, হওয়া উচিত ও না। অবশ্যই অপ্রত্যাশিত।’ 

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ ছাড়া মিরপুর স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় স্টেডিয়াম ও বিসিবি অফিসের নিরাপত্তা স্বার্থের কথা। ওই বিবৃতির আগে বিসিবির তিন পরিচালক ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও নাজমুল হকের ছবি প্রকাশ করে একটি জাতীয় গণমাধ্যম। যেখানে ফারুক ও নাজমুলের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে বলে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। যার প্রেক্ষিতে সংবাদকর্মীদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে বিসিবি।