বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি আজ বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে সোনালি ট্রফি একদিনের ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসেছে। ১৫০ দিনের সফরটা শেষ হবে বিশ্বকাপে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে। ১২ জুন মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা।
‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা’র অংশ হিসাবে থাকবে ট্রফিটি। সঙ্গে এসেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। যিনি আর্সেনালের সাবেক খেলোয়াড়।
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা
সংক্ষিপ্ত সফরে ট্রফি বহনকারী চার্টার্ড বিমান বুধবার সকাল ১০টার দিকে পাকিস্তান ও ভারত হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ট্রফি গ্রহণ করবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বিমানবন্দর থেকে কড়া পাহারায় ট্রফি নিয়ে যাওয়া হবে হোটেল র্যাডিসন ব্লু’তে। তবে সাধারণ দর্শকদের আশা এবারও পূরণ হচ্ছে না। ২০২২ সালের মতো কনসার্ট বা কোনো প্রদর্শনী হবে না। শুধু কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের নির্দিষ্ট বিজয়ীরাই বিকালে ট্রফি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।
বাফুফে ‘অসহায়’
জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘরোয়া লিগের খেলা চলায় নারী বা পুরুষ অন্য ফুটবলারদের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাফুফের সহসভাপতি ও মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেন, ‘খেলোয়াড়দের থাকার বিষয়টি আমরা (বাফুফে) নিশ্চিত নই। আমাদের বলা হয়েছে ট্রফি সকালে আসবে, তাবিথ ভাই রিসিভ করবেন। এরপর হয়তো বাফুফে এবং অতিথিদের জন্য আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার একটা সেশন থাকতে পারে। তারা আয়োজনটা খুবই সংক্ষিপ্ত করছে, এর বেশি কিছু নয়।’ নারী ফুটবলাররা থাকবেন কি? এমন প্রশ্নে হতাশ তিনি। বলেন, ‘না ভাই, ওটাও নিশ্চিত না। খেলোয়াড়রা এখন যার যার ক্লাবে। তারা যদি ক্যাম্পে থাকত, আমরা সবাইকে নিয়ে যেতাম। এখন সবাই ক্লাবে। ক্লাব ছাড়বে কি না, সেটা ওদের বিষয়। তবে শেষ মুহূর্তে হয়তো পরিবর্তন হতেও পারে।’
ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকা
সৌদি আরবের রিয়াদে ইতালিয়ান কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর হাত ধরে শুরু হওয়া এবার ট্রফি ৭৫টি দেশ ঘুরবে। এ বছর জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ৪৮ দলের বিশাল বিশ্বকাপের আগে এই বিশ্বভ্রমণ। ঢাকায় মাত্র একদিনের ঝটিকা সফর শেষে আজ রাতে ট্রফি উড়াল দেবে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ হয়তো নেই, লাল-সবুজের জার্সি হয়তো এখনই সেখানে দেখা যাবে না; কিন্তু ট্রফিটা হাতের নাগালে পাওয়ার রোমাঞ্চটুকুইবা কম কিসে! ফুটবলকে ভালোবেসে যে জাতি নির্ঘুম রাত কাটায়, তাদের জন্য ট্রফির এক ঝলকই অনেক বড় পাওয়া।