ফিফা বিশ্বকাপ

শঙ্কার মুখেও ‘বিশাল উৎসবের’ ঘোষণা ইনফান্তিনোর

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড। একদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা, অন্যদিকে ফিফা প্রেসিডেন্টের রেকর্ড টিকিট বিক্রির উল্লাস- সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা ফুটবলের স্বাভাবিক সূচিকে বাধাগ্রস্ত করছে। সম্প্রতি ইরাক ফুটবল ফেডারেশন তাদের মেক্সিকোতে নির্ধারিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। আকাশপথ বন্ধ থাকা এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা এই আবেদন করেছে, যা সরাসরি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সংকটের ফল।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো ভূ-রাজনৈতিক এই সংকটকে পাত্তাই দেননি। তিনি বরং বাণিজ্যিক সাফল্যের দিকেই নজর রাখছেন। মাত্র চার সপ্তাহে ফিফা ৫০০ মিলিয়নের বেশি টিকিটের আবেদন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। আর ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৭টি ম্যাচের প্রতিটির জন্য ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

‘মানুষ যখন বলত যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের (সকার) খুব একটা কদর নেই, সেই ধারণা এখন বদলে গেছে। এটি একটি বিশাল সফল আয়োজন হতে যাচ্ছে। ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ, ১৬টি শহর এবং তিনটি দেশ নিয়ে এটিই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম (এত বড়) বিশ্বকাপ... আমরা এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মুখোমুখি। এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেয়েও বেশি কিছু; এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান যার জন্য গোটা বিশ্ব থমকে দাঁড়াবে।’

৩টি দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশাল আয়োজনকে ইনফান্তিনো কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি ‘সোশ্যাল ইভেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দল ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আসরটিতে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন। পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নাম প্রত্যাহার করল কি না, তাতে তার কিছু যায় আসে না। তিনি ইরানকে একটি ‘পরাজিত দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আটলান্টার লজিস্টিক মিটিংয়ে ইরানের কোনো প্রতিনিধি না থাকা এই বিভেদকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

একদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট যখন স্টেডিয়াম হাউসফুল হওয়ার আনন্দে মেতেছেন, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংকট বিশ্বকাপের মূল চেতনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবল জয়ী হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

NB/SN
আরও পড়ুন