পর্তুগালের দরকার গোল, রোনালদোকে নয়

বিশ্বকাপের মঞ্চে সোমবার (১৫ জুন) আর মঙ্গলবার (১৬ জুন) ছিলো ফুটবলের তিন মহাতারকার রাত। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোলে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, আর্লিং হাল্যান্ড নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক রাঙিয়েছেন দুই গোল করে, আর লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। ফলে বুধবারের (১৭ জুন) আলোটা ছিল স্বাভাবিকভাবেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো'র দিকে।

কিন্তু সেই প্রত্যাশার রাতটা রোনালদোর জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে পর্তুগাল অধিনায়ক ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। বরং ম্যাচের শেষভাগে গোলের জন্য তার অতিরিক্ত আগ্রহই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণে ব্রুনো ফার্নান্দেজের জন্য সহজ সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রোনালদো নিজেই পাসের লাইনে চলে আসেন। সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েঁরি হেনরি মনে করেন, সেখানে দলের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত গোলের আকাঙ্ক্ষাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। তার ভাষায়, দলের প্রয়োজন ছিল গোল, কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নয়।

৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরু করা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়লেও পুরো ম্যাচ খেলেও প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি রোনালদো। ম্যাচজুড়ে তার বলের সংস্পর্শে আসার সংখ্যাও ছিল মাঠে পূর্ণ সময় খেলা পর্তুগিজ আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ম্যাচ শেষে আলোচনায় এসেছে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ-এর সিদ্ধান্তও। অনেকের মতে, খেলার গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রোনালদোকে বদলি করা উচিত ছিল। তবে কোচ শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠেই রেখেছিলেন।

এদিকে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক রবার্তো মার্তিনেজ মনে করেন, রোনালদোর খেলা সবসময় পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তার মতে, সুযোগ পেলে এখনও গোল করার সামর্থ্য রয়েছে এই কিংবদন্তির। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই যেখানে মেসি, এমবাপ্পে ও হাল্যান্ড নিজেদের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন, সেখানে রোনালদোর নামের পাশে যোগ হয়েছে আরেকটি হতাশার রাত। ২০২২ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি গোলের পর থেকে বড় কোনো টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ গোলশূন্য থাকলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। সূত্র: বিবিসি