২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে মাঠে গড়িয়েছে টুর্নামেন্ট, আর সেই সঙ্গে বদলে গেছে নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণও।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ৪৮ দল, যাদের ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি দল খেলবে তিনটি করে ম্যাচ। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পর্বের ভাগ্য।
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি চলে যাবে শেষ ৩২-এ। এতে মোট ২৪টি দল নিশ্চিত হয়। বাকি আটটি জায়গা পূরণ করা হবে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে।
১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর জন্য তৈরি হবে আলাদা র্যাঙ্কিং। সেখান থেকে সেরা আটটি দল পাবে শেষ ৩২-এ খেলার টিকিট। অর্থাৎ গ্রুপে তৃতীয় হলেও ভালো পারফরম্যান্স থাকলে নকআউটে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এই র্যাঙ্কিং নির্ধারণে প্রথমে দেখা হবে পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান এবং করা গোল। যদি একাধিক দলের মধ্যে সমতা থাকে, তখন ফেয়ার প্লে রেকর্ড, হলুদ ও লাল কার্ডের হিসাব, বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এভাবেই নির্ধারিত হবে শেষ আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল, যারা শেষ ৩২-এর পর্বে জায়গা করে নেবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ সংখ্যা ১০৪টি। গ্রুপ পর্ব শেষ হবে ২৮ জুন, এরপর শুরু হবে শেষ ৩২-এর লড়াই, যা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। তারপর শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল।
এর আগেও বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান থেকে নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ২৪ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলো শেষ ষোলোতে উঠেছিল।
তবে ১৯৯৮ থেকে ৩২ দলের ফরম্যাট চালু হলে শুধু শীর্ষ দুই দলই নকআউটে যেত। এবার ৪৮ দলের নতুন কাঠামোয় আবারও ফিরে এসেছে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ের সুযোগ।
তবে ইতিহাস বলছে, গ্রুপে তৃতীয় হয়ে এখনো কেউ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইতালি, যারাগ গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া সত্ত্বেও একবার ফাইনালে পৌঁছেছিল।