রিফিউজি ক্যাম্প থেকে বিশ্বমঞ্চে অ্যান্টোনিও রুডিগার

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে জার্মানির জার্সিতে মাঠে নামার সময় অ্যান্টোনিও রুডিগারের পাশে ছিল লাখো সমর্থকের ভালোবাসা। কিন্তু তার চেয়েও বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের স্মৃতি। কারণ আজ যে মানুষটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, তার গল্পের শুরু হয়েছিল যুদ্ধ, পালিয়ে বাঁচা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।

জার্মানির হয়ে কিউরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রুডিগার। কিন্তু সেই মুহূর্তটি তার পরিবারের জন্য ছিল আরও গভীর অর্থবহ। একসময় সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে হয়েছিল তাদের। বিদ্রোহীদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পরিবারের সদস্যদের কখনও চালের বস্তার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, কখনও মৃতের ভান করে পড়ে থাকতে হয়েছে, শুধুমাত্র বেঁচে থাকার আশায়।

রুডিগারের জন্ম অবশ্য জার্মানিতেই। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পাওয়ার পর বার্লিনে জন্ম নেন তিনি। তবে শৈশব কেটেছে একটি শরণার্থী কেন্দ্রে, যেখানে একটি কক্ষেই গাদাগাদি করে থাকতে হতো পরিবারগুলোকে। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাকে মনে করিয়ে দেয়, জীবনে কোনো কিছুই বিনা মূল্যে পাওয়া যায় না।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া শরণার্থী পটভূমির ফুটবলারদের মধ্যে রুডিগার একা নন। কানাডার অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস, রিয়াল মাদ্রিদের এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, নাইজেরিয়ার ভিক্টর মোজেস কিংবা অস্ট্রেলিয়ার নেস্টরি ইরানকুন্ডাদের গল্পেও আছে যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি আর নতুন জীবনের সন্ধান। কেউ শরণার্থী শিবিরে বড় হয়েছেন, কেউ পরিবার হারিয়েছেন সংঘাতে, আবার কেউ নতুন দেশে গিয়ে পেয়েছেন স্বপ্ন দেখার সুযোগ।

তাদের সবার গল্প যেন এক জায়গায় এসে মিলে যায়। ফুটবল তাদের জন্য শুধু একটি খেলা নয়, বরং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের পর নতুন পরিচয় গড়ে তোলার প্রতীক।

তবে রুডিগারের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরণার্থীদের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। একসময় সহানুভূতি বেশি থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সমস্যার উৎস হিসেবে দেখানো হয়। অথচ কয়েকজনের ভুলের দায় পুরো একটি জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

তার ভাষায়, পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আশ্রয় খোঁজেন। তারা ভাষা শেখেন, স্কুলে যান, কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সমাজের অংশ হয়ে ওঠেন। আর সেই গল্পগুলোই আরও বেশি করে বলা প্রয়োজন। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন