‘চোরের দলের ম্যাচ’ সার্চে আসছে আর্জেন্টিনার নাম

গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ লিখে সার্চ করলে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের তথ্য প্রদর্শিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুগল কোনো দলকে ‘চোরের দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বরং ইন্টারনেটে প্রচলিত কনটেন্ট, ব্যবহারকারীদের সার্চের ধরণ এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের সমন্বয়ে এ ধরনের ফলাফল দেখা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তৈরি অসংখ্য ট্রল, মিম ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব পোস্টে একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের উল্লেখও রয়েছে। ফলে গুগলের স্বয়ংক্রিয় সার্চ ব্যবস্থা দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি সম্পর্ক শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ম্যাচের তথ্য প্রদর্শন করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একটি শব্দ বা বাক্যাংশ যদি বিপুলসংখ্যক অনলাইন কনটেন্টে একই বিষয়ের সঙ্গে বারবার যুক্ত হয় এবং অনেক ব্যবহারকারী একইভাবে সার্চ করে একই ফলাফলে প্রবেশ করেন, তাহলে গুগলের অ্যালগরিদম সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এ কারণেই কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ‘চোরের দলের ম্যাচ’ ধরনের সার্চে আর্জেন্টিনার ম্যাচের তথ্য দেখা যাচ্ছে।

এই ট্রলের পেছনে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের ফুটবল-প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসে পরিচিতি পায়। রেফারি সেটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বহাল থাকে, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত হিসেবে আলোচিত।

একই ম্যাচে ম্যারাডোনা মাঝমাঠ থেকে একাধিক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে আরেকটি অসাধারণ গোল করেন, যা পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

চার দশক পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবার আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ায় পুরোনো সেই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের তৈরি মিম ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকেই ‘চোরের দলের খেলা কবে’ বাক্যটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে একই সার্চ ফলাফল সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এক নয়। গুগলের সার্চ ফলাফল ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষা, সার্চ ইতিহাস, ডিভাইসের সেটিংস এবং চলমান অনলাইন প্রবণতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে এক ব্যবহারকারী যে ফলাফল দেখছেন, অন্য ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হওয়াও স্বাভাবিক।