ফ্রান্স দলে ‘কোনো ফরাসি নেই’ মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স জাতীয় দলকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়। তার মন্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিদেশিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছেন ফ্রান্স ও স্পেন, দুই দেশেরই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা।

২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবেতে প্রকাশিত এক কলামে লিখেছেন, ‘বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা (ফ্রান্স) এক নম্বরে। তাদের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড়ও রয়েছে। তবে তাদের দলে কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই, তারপরও তারা দারুণ খেলছে।’

তার এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই ফ্রান্সে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশটির একাধিক শীর্ষ রাজনীতিক রাহয়ের বক্তব্যকে বর্ণবাদী ইঙ্গিতপূর্ণ বলে অভিযোগ তোলেন।

রোববার (১২ জুলাই) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, রাহয়ের মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। ফরাসি টেলিভিশন বিএফএম টিভিতে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স বৈচিত্র্যের দেশ। এখানে প্রত্যেক মানুষের নিজের জায়গা তৈরি করার এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের মন্তব্যের সমালোচনা হয়েছে তার নিজের দেশ স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে ‘ফ্রাঙ্কো-পরবর্তী যুগের এক নির্বোধ’ বলে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে নিজেকে ‘মধ্যপন্থী’ রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও রাহয়ের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্যটিকে ‘জেনোফোবিক’ বা ‘বিদেশিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা পদবি, জন্মস্থান কিংবা গায়ের রঙ দিয়ে একজনের নাগরিকত্ব বিচার করেন। অথচ অন্যরা একটি দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং সেই দেশের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছাকেই প্রকৃত পরিচয় হিসেবে দেখেন।’

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিফাইনালের আগে ফুটবলকে ঘিরে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত