২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন শেষের দ্বারপ্রান্তে, তখন কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট—আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স আবারও একটি ফাইনালের মুখোমুখি হওয়ার পথে রয়েছে।
৪ বছর আগে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেবার ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোকে হারিয়ে দুই দল ফাইনালে উঠলেও, এবার সেমিফাইনালে তাদের লড়তে হবে শিরোপার অন্যতম দাবিদার শক্তিশালী দুই দলের বিরুদ্ধে।
ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার এইবারের সেমিফাইনাল লাইনআপটি কি ফুটবল ইতিহাসের সেরা? আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২০২৬-এর সেমিফাইনাল লাইনআপ: ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাংকিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ চার দল একসঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
ফ্রান্স (র্যাংকিং ১): কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার এবং ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটিকে শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা (র্যাংকিং ২): লিওনেল মেসির নেতৃত্বে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লড়ছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে মেসি নিজেকে সর্বকালের সেরা হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।
স্পেন (র্যাংকিং ৩): বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে গঠিত স্পেনের রক্ষণভাগ এবার বেশ শক্ত। ইউরো ২০২৪-এর মতো এখানেও ইয়ামাল তার পায়ের জাদু দেখাতে প্রস্তুত।
ইংল্যান্ড (র্যাংকিং ৪): র্যাংকিংয়ে চার নম্বরে থাকলেও হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহামের মতো প্রতিভাধর তারকাদের কারণে ফ্রান্সের পরেই তাদের ফেভারিট ভাবা হচ্ছে।
অতীতের উল্লেখযোগ্য সেমিফাইনাল লাইনআপসমূহ
২০১৮ (রাশিয়া): সেবার ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছিল। ফাইনালে আন্ডারডগ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।
২০১৪ (ব্রাজিল): জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডসের সেমিফাইনাল ছিল এটি। সেবার ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে জার্মানি এবং পরে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
২০০৬ (জার্মানি): ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগাল উঠেছিল সেমিফাইনালে। এটি ছিল জিনেদিন জিদানের বিদায়ী বিশ্বকাপ, যা ইতালির শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
১৯৯০ (ইতালি): পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ডের মতো কিংবদন্তি নামের সমাহার থাকলেও টুর্নামেন্টের ফুটবল ছিল বেশ রক্ষণাত্মক ও মন্থর। লোথার ম্যাথাউসের জার্মানি সেবার ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
১৯৮৬ (মেক্সিকো): ডিয়েগো ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে মায়াবী হয়ে উঠেছিল এই বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সেমিফাইনাল লাইনআপের মধ্যে ম্যারাডোনার হাত ধরেই চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
১৯৭৪ (পশ্চিম জার্মানি): ইয়োহান ক্রুইফের 'টোটাল ফুটবল' দিয়ে নেদারল্যান্ডস বিশ্বকে চমকে দিলেও স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা হেরে যায়। সেমিফাইনালের বাকি দুই দল ছিল ব্রাজিল ও পোল্যান্ড।
১৯৭০ (মেক্সিকো): পেলে ও তার দল ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবলের প্রথম ঝলক দেখে বিশ্ব। সেবার ব্রাজিল, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিরা সেমিফাইনালে উঠেছিল।
২০২৬ সালের সেমিফাইনালই কী সেরা?
চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চার দলেই বিশ্বমানের প্রতিভার যে ছড়াছড়ি, তাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও অনেকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছেন। এবারের টুর্নামেন্টে কঙ্গো এবং কেপ ভার্দের মতো নতুন দলগুলো চমক দেখালেও, শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চার পরাশক্তিই টিকে রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের আধুনিক ও কঠিনতম ট্যাকটিক্যাল লড়াই পার করে আসা এই চার দলের সেমিফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং সুন্দরতম মুহূর্ত উপহার দিতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপে ব্যর্থ, মৃত্যুর হুমকিতে আত্মগোপনে ফুটবলার
বরখাস্ত হলেন সেনেগালের কোচ
২০৩০ বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিফার