২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। এখন ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষা দ্বিতীয় সেমিফাইনালের। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যদি আর্জেন্টিনাও ফাইনালে জায়গা করে নেয়, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা মিলবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এক লড়াইয়ের। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা যে দ্বৈরথকে ইতোমধ্যেই অনেকেই ‘স্বপ্নের ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন।
সম্ভাব্য এই ফাইনালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। একদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি, যিনি কেরিয়ারের শেষ ভাগেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। অন্যদিকে মাত্র কিশোর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তোলা ইয়ামাল, যাকে স্পেনের নতুন প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল মেসির কোলে ছোট্ট ইয়ামালের ছবি। সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির প্রতিপক্ষ হওয়ার অপেক্ষায়।
তবে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার আগে আর্জেন্টিনাকে পেরোতে হবে ইংল্যান্ডের কঠিন বাধা। সেই পরীক্ষায় উতরাতে পারলেই ফুটবল বিশ্ব উপহার পাবে বহুদিনের প্রতীক্ষিত স্পেন-আর্জেন্টিনা মহারণ।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলের ব্যবধান খুবই সামান্য। সর্বশেষ পাঁচবারের দেখায় আর্জেন্টিনা জিতেছে ২টি ম্যাচ, স্পেনের জয় ৩টি।
বিশ্বকাপে অবশ্য দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ১৯৬৬ সালের আসরের গ্রুপ পর্বে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আর বিশ্বকাপে তাদের পথ মেলেনি।
সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৮ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার ৬-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল স্পেন। তবে সেই ম্যাচে ছিলেন না লিওনেল মেসি। আর ২০১০ সালের প্রীতি ম্যাচে মেসির নেতৃত্বেই স্পেনকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
কারা এগিয়ে?
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের বড় একটি অংশ এখনও দলে রয়েছে। লিওনেল মেসির নেতৃত্ব, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর মানসিকতা আলবিসেলেস্তেদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।
অন্যদিকে স্পেনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাদের তারুণ্য, গতি ও বলের দখলভিত্তিক ফুটবল। মাঝমাঠে রদ্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইজ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারলে স্পেনকে থামানো কঠিন হবে। পাশাপাশি লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও পেদ্রিদের গতিময় ফুটবল যে কোনো রক্ষণভাগের জন্যই বড় পরীক্ষা।
আবার আর্জেন্টিনার রক্ষণেও থাকবেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। ফলে ইয়ামালদের থামানোর দায়িত্বটাও সহজ হবে না।
দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়ন
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান এই দুই চ্যাম্পিয়নদের স্বপ্নের লড়াই দেখার একটি বড় ইচ্ছে ছিল ফুটবলপ্রেমীদের। এই দ্বৈরথ হওয়ার কথা ছিল আরও আগেই। চলতি বছরের মার্চে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনালিসিমা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই ম্যাচ আর মাঠে গড়ায়নি। ফলে দুই মহাদেশের সেরা দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘই থেকে যায়। আর্জেন্টিনা সেমিতে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই ফাইনালে সে অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
নতুন ক্লাসিকদের হাতে উঠবে কী বিশ্বকাপ?
স্পেন ও আর্জেন্টিনা কখনোই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি। তাই ২০২৬ সালে যদি দুই দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ওঠে, সেটিই হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের প্রথম ফাইনাল।
অভিজ্ঞতার প্রতীক মেসি, নাকি নতুন যুগের মুখ ইয়ামাল? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই সম্ভাব্য দ্বৈরথের অপেক্ষায়। তবে তার আগে আর্জেন্টিনাকে পেরোতে হবে ইংল্যান্ডের বাধা। সেটি সম্ভব হলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পাবেন মনে রাখার মতো রোমাঞ্চকর একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল।