হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে লড়াই

ভারতে ৮৫ কোটির বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপের প্রবর্তিত ‘নাও অথবা ছেড়ে দাও’ (Take it or leave it) ধরনের বিতর্কিত গোপনীয়তা নীতি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চলছে এই ঐতিহাসিক শুনানি।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ তাদের নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন আনে। নতুন শর্তে বলা হয়, অ্যাপটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে হলে ব্যবহারকারীর তথ্য মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ এর অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে সম্মতি দিতে হবে। এর আগে ২০১৬ সালের নীতিতে ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপনের জন্য তথ্য শেয়ার করার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার (Opt-out) সুযোগ থাকলেও, নতুন নীতিতে সেই বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশন (CCI) হোয়াটসঅ্যাপের এই নীতিকে ‘প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার’ হিসেবে গণ্য করে মেটাকে ২৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর তথ্য মেটার অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে সর্বোচ্চ আদালত ‘নাও অথবা ছেড়ে দাও’ পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত তথ্যের প্রশ্নে সংবিধানপ্রদত্ত গোপনীয়তার অধিকারকে কোনোভাবেই খাটো করা যাবে না। আদালতের কঠোর অবস্থানের মুখে হোয়াটসঅ্যাপ একটি হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীদের তথ্য ভাগাভাগির বিষয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। অর্থাৎ, কেউ চাইলে বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি থেকে সরে দাঁড়াতে পারবেন, তবুও তার হোয়াটসঅ্যাপ সেবা বন্ধ হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়, বরং গুগল বা ফেসবুকের মতো অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করবে, তার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে। ডিজিটাল অধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই রায় ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষায় এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে।