বর্তমান বিশ্বে ফেসবুক এখন কেবল বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন ফেসবুককে ব্যবহার করে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ছেন। যদি আপনার লক্ষ্য থাকে প্রতিদিন ১০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা) আয় করা, তবে এটি অসম্ভব কিছু নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং ধৈর্য। নিচে ফেসবুক থেকে আয়ের জনপ্রিয় ও কার্যকরী মাধ্যমগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ফেসবুক ইন-স্ট্রিম অ্যাডস (In-stream Ads)

ভিডিও মনিটাইজেশন বা ইন-স্ট্রিম অ্যাডস হলো ফেসবুক থেকে আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও আপনার বড় ভিডিওর মাঝে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে টাকা আয় করা যায়।
শর্ত: আপনার পেজে অন্তত ৫,০০০ ফলোয়ার থাকতে হবে এবং গত ৬০ দিনে ৬০,০০০ মিনিট ‘ওয়াচ টাইম’ বা দেখার সময় থাকতে হবে।
আয়ের উপায়: শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক বা রান্নার ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত আপলোড করলে এবং ভিডিওগুলো ভাইরাল হলে ভিউ অনুযায়ী আপনার ডলারে ইনকাম বাড়বে। প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার ভিউ নিশ্চিত করতে পারলে ১০০ ডলার আয় করা সহজ হবে।
২. ফেসবুক রিলস মনিটাইজেশন (Reels Monetization)

বর্তমানে ফেসবুক ‘রিলস’ বা ছোট ভিডিওতে সবচেয়ে বেশি রিচ দিচ্ছে। ‘অ্যাডস অন রিলস’ (Ads on Reels) ফিচারের মাধ্যমে আপনি ছোট ভিডিও থেকেও ইনকাম করতে পারেন।
টিপস: প্রতিদিন অন্তত ২-৩টি ইউনিক এবং মজাদার রিলস আপলোড করুন। যদি আপনার রিলস নিয়মিত মিলিয়ন ভিউ পায়, তবে মাস শেষে আপনার প্রতিদিনের গড় আয় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
৩. এফ-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা (F-commerce)

ফেসবুক পেজকে শোরুম হিসেবে ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা এখনকার সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।
কৌশল: আপনার এলাকায় জনপ্রিয় কোনো পণ্য (যেমন- অর্গানিক ফুড, হস্তশিল্প, বা ইলেকট্রনিক্স) সোর্সিং করুন। ফেসবুক অ্যাডস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টার্গেট করা কাস্টমারদের কাছে পৌঁছান। দিনে ৫-১০টি ভালো মানের অর্ডার নিশ্চিত করতে পারলে ১০০ ডলার প্রফিট করা খুবই সম্ভব।
৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

আপনার যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বড় ফেসবুক গ্রুপ বা পেজ থাকে, তবে আপনি অন্যের পণ্য প্রোমোট করে কমিশন আয় করতে পারেন।
পদ্ধতি: অ্যামাজন (Amazon), দারাজ (Daraz) বা আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মের পণ্যের রিভিউ ভিডিও বা পোস্ট করুন এবং কমেন্টে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক দিন। আপনার লিংক থেকে কেউ পণ্য কিনলেই আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। এটি প্যাসিভ ইনকামের একটি দারুণ মাধ্যম।
৫. ফেসবুক অ্যাড এক্সপার্ট হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং
![]()
বর্তমানে প্রায় সব কোম্পানি তাদের ব্যবসার প্রসারে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি ‘ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজার’ ব্যবহারে দক্ষ হন, তবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর আয় করতে পারেন।
আয়: একটি বিদেশি ক্লায়েন্টের ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজমেন্ট করে আপনি প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার চার্জ করতে পারেন। এমন ৩-৪টি স্থায়ী ক্লায়েন্ট থাকলে আপনার দৈনিক গড় আয় ১০০ ডলারের উপরে থাকবে।
৬. ফ্যান সাবস্ক্রিপশন ও স্টার (Stars & Subscriptions)
আপনার যদি বড় ফ্যান বেজ থাকে, তবে ফেসবুকের ‘স্টার’ ফিচারের মাধ্যমে দর্শকরা আপনাকে ভার্চুয়াল উপহার পাঠাতে পারে, যা ডলারে কনভার্ট করা যায়। এছাড়া ‘ফ্যান সাবস্ক্রিপশন’ ফিচারের মাধ্যমে আপনার বিশেষ কন্টেন্ট দেখার জন্য ভক্তরা মাসিক নির্দিষ্ট ফি প্রদান করবে।
সফল হতে যা মনে রাখা জরুরি:
১. ইউনিক কন্টেন্ট: অন্যের ভিডিও কপি করে আপলোড করলে ফেসবুক আপনার পেজ ব্যান করে দেবে। সব সময় নিজের তৈরি কন্টেন্ট ব্যবহার করুন।
২. ফেসবুক পলিসি: মিউজিক বা ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কপিরাইট পলিসি কঠোরভাবে মেনে চলুন।
৩. ধৈর্য: এক রাতে ১০০ ডলার আয় সম্ভব নয়। ৩ থেকে ৬ মাস নিয়মিত কাজ করলে আয়ের একটি শক্তিশালী ধারা তৈরি হবে।

