জেট ফুয়েলের দাম বাড়লো 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম। চলতি মার্চ মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দাম সমন্বয় করা হলো। এবার প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দর ঘোষণা করেছে। আজ দিবাগত রাত  রাত ১২টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিইআরসি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে গত ৮ মার্চ এই দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। গত ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আকাশপথের এই জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। যুদ্ধের প্রভাবে উভয় পক্ষই জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এছাড়া ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও।

জেট ফুয়েলের দাম এভাবে লাগামহীনভাবে বাড়লে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া বড় আকারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বিমান সংস্থাগুলো তাদের লোকসান কমাতে টিকিট প্রতি জ্বালানি সারচার্জ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বিপিসি। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই দায়িত্ব বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং তখন থেকেই প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারিত হচ্ছে।