যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক এবং মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস। অত্যন্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশাধিকার থাকা এসব বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে একটি ‘গুরুতর প্যাটার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এই নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো এতটাই পরিকল্পিত মনে হচ্ছে যে, একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা জরুরি বলে প্রশাসন মনে করছে।’

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির (JPL) সিনিয়র মহাকাশ প্রকৌশলী মনিকা জাসিন্তো রেজা ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। একই বছরের আগস্টে কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসের ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া এবং মে মাসে লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ নিখোঁজ হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হন এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড।

নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। নাসার জেপিএল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ফ্র্যাংক মাইওয়াল্ড (২০২৪) এবং গবেষক মাইকেল ডেভিড হিকস (২০২৩) মারা যান, যাদের মৃত্যুর কারণ আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

এমন এক সময়ে এই ঘটনাগুলো ঘটছে যখন হোয়াইট হাউস নাসা ও পেন্টাগনকে ‘পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি’ তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন এই রহস্যের কিনারা করতে এফবিআই-কে (FBI) আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এত বেশি নিখোঁজ ও মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই তাদের ফোন ও মানিব্যাগের মতো অত্যন্ত জরুরি ব্যক্তিগত জিনিস ফেলে গেছেন। এটি সাধারণ কোনো নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়, বরং কোনো পরিকল্পিত হুমকির ইঙ্গিত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড