হরমুজে জাহাজ জব্দ নিয়ে উত্তেজনা: পানামার নিন্দা, গ্রিসের সতর্কতা

বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ থেকে দুটি আন্তর্জাতিক জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পানামা। একই সাথে সকল জাহাজকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রিস। তেহরানের এই পদক্ষেপকে সমুদ্র নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশগুলো।

পানামার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী এবং ইতালীয় মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানি বাহিনী সেটিকে জোরপূর্বক নিজেদের জলসীমায় নিয়ে যায়। পানামা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এই পথে এমন আচরণ অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জেস গেরাপেট্রিটিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে তাদের একটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (UKMTO) জানিয়েছে, গ্রিক পতাকাবাহী ‘এপামিনোন্ডাস’ নামের জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রিস তাদের সকল জাহাজকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জাহাজ দুটি জব্দের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটি আসলে ইসরায়েলি সরকারের মালিকানাধীন। তেহরানের পক্ষ থেকে জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে:
১. জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়াই ওই পথে চলাচল করছিল।
২. তারা বারবার আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
৩. নেভিগেশন বা জাহাজ চালনা সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করেছে।
৪. তারা গোপনে এবং আইন অমান্য করে প্রণালিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘ইরানি জাতির অধিকার সমুন্নত রাখতে’ এবং কার্গো ও নথিপত্র পরীক্ষার জন্য জাহাজ দুটিকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানি নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য তেহরান কর্তৃক ঘোষিত নতুন আইন যারা অমান্য করবে বা বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে এবং কঠোর আইনি ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।