কঙ্গোতে ইবোলার থাবা, ৬৫ জনের মৃত্যু

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাস। নতুন করে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৪৬ জন। 

শুক্রবার (১৫ মে) আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (আফ্রিকা সিডিসি) এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই ইতুরি প্রদেশের স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মঙ্গওয়ালু ও রামপারা শহরের বাসিন্দা। খনি এলাকায় ঘনবসতি এবং মানুষের অবাধ চলাচলের কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধে ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে আফ্রিকা সিডিসি। এই বৈঠকে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা এবং সম্মিলিত রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কঙ্গোতে ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম আক্রমণ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বন্য বাদুড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এরপর সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ বা ক্ষতস্থানের সরাসরি সংস্পর্শে এলে তা দ্রুত অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা। পরিস্থিতির অবনতি হলে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র‍্যাশ এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে ইবোলার নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই এবং এ রোগে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।