আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে এক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর এই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে
মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গত রবিবার জামফারার জুরমি জেলার একটি দুর্গম ও জনাকীর্ণ বাজারে এই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ জুরমি ও শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে সামরিক বিমানগুলো ওই এলাকায় কয়েকবার চক্কর দেওয়ার পর অতর্কিতভাবে বাজারে বোমা বর্ষণ শুরু করে।
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এই নৃশংস হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় তারা দাবি করে আসছিল যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল দস্যু বা জঙ্গি আস্তানাগুলোতেই এমন অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছাড়াই এমন ঢালাও বিমান হামলা বেসামরিক জানমালের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে ‘বেআইনি’ এবং ‘বেসামরিক জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলেও উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার জিলি এলাকায় একটি বাজারে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন। সংস্থাটি এই ঘটনার অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল বর্তমানে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দস্যু বাহিনী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ১৭ বছর ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে। গত বছর বড়দিনে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেখানে বিশেষ বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতেই একের পর এক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির ইঙ্গিত তেহরানের