যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় স্থল, নৌ ও আকাশপথে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ, শত্রুতামূলক প্রচারণা থামানো এবং একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ও চুক্তিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে।
চুক্তি কার্যকর হলে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক সংকেত থাকলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সময় নয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল ব্যবস্থা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পারমাণবিক উপাদান বিদেশে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান নিজেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালাতে পারে।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল আরাবিয়া