ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের বিভেদ তৈরি হয়েছে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষই তাদের চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় 'কিছুটা ইতিবাচক গতি' রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
দোহার ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ প্রোগ্রামের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিশ্লেষক এলমাসরি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ড ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি "উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ" অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু করতে চান। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এই মুহূর্তে সামরিক সংঘাতের চেয়ে "কূটনৈতিক পথের" প্রতি অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যদি এই তথ্য সত্যি হয় তবে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি একটি বড় অগ্রগতি প্রদর্শন করে। এলমাসরির মতে, "যেহেতু ইরানি এবং মার্কিন উভয় পক্ষই বলছে যে অন্তত কিছুটা ইতিবাচক গতি রয়েছে, তাই বলা যায় টানেলের শেষে হয়তো আলোর দেখা মিলছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিমতের জায়গাগুলো হয়তো আরও সংকুচিত বা কমে আসতে পারে।"
মাঠের পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এলমাসরি উল্লেখ করেন, ইরান ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর একটি উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে তারা বর্তমানে ওমানের সাথে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু ওমানই নয়, ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের সাথেও এই বিষয়ে কথা বলেছে। এলমাসরি মনে করেন, মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে হয়তো আরও অনেক দেশই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের এই নিয়ন্ত্রণকে মেনে নিতে শুরু করবে। ইতিমধ্যে চীন ইরানের এই নিয়ন্ত্রণের অধীনে প্রশাসনিক ফি দিতে রাজি হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। চীন যদি চূড়ান্তভাবে এতে স্বাক্ষর করে, তবে তা হবে একটি বিশাল মাইলফলক এবং এর ফলে অন্য দেশগুলোও একে একে তা মেনে নিতে বাধ্য হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি: সমাধান আটকে আছে বড় ৬ দ্বিমতে