সমঝোতা স্মারকে সই করলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ইসলামাবাদ এমওইউ)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাইলিস প্রাসাদে এক নৈশভোজের ঠিক আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে তিনি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এর পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে বসে চুক্তিটিতে সই করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ ইতিমধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করেছে।

মাত্র ৮০০ শব্দের এবং ১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত এই ‘ইসলামাবাদ এমওইউ’ আকারে বেশ সংক্ষিপ্ত হলেও ভূ-রাজনীতিতে এর তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। কয়েক দশক ধরে চলা ওয়াশিংটন-তেহরান স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমন করে একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিকে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে টানা ৪০ দিনের সংঘাত এবং পরবর্তী সময়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির স্থবিরতার পর এই অগ্রগতি এলো। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে এই নতুন চুক্তির একটি খসড়া পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে জানিয়েছিলেন যে, তারা ইরানের কাছে একটি সমঝোতার খসড়া পাঠিয়েছেন এবং দ্রুতই একটি চূড়ান্ত মীমাংসায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন। সেই খসড়াই এবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।