সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত শান্তি আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে।
বৈঠকের প্রথম ধাপ শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশ একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত, ভুল বোঝাবুঝি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখবে। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দুই পক্ষই এই নৌপথে পারস্পরিক যোগাযোগ সচল রাখতে একমত হয়েছে।
প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কিছু আর্থিক সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানে প্রথম দফা বৈঠক ব্যর্থ হলেও কাতার ও পাকিস্তানের জোরালো মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সেই স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই সুইজারল্যান্ডে এই স্থায়ী শান্তি আলোচনা শুরু হলো।
চলমান এই শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি। এছাড়াও সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ (IAEA)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবানন যুদ্ধবিরতির স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা ও এএফপি।