নৌপথে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে বহিরাগত কোনো সামরিক শক্তির প্রদর্শনী মঞ্চ হতে দেয়া হবে না।
শনিবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ সংবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
হুঁশিয়ারি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী লিখেছেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে ইরান এই নৌপথে যেকোনো ধরনের সামরিক চলাচলের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
হরমুজের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কেবল এর উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর। যারা সঙ্কট তৈরি করতে চাইছে, তাদের এই হঠকারিতার পরিণামের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং এটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুতর হুঁশিয়ারি।’
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় সমর্থন দেওয়ার নামে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সেখানে সামরিক উপস্থিতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই তীব্র প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, স্থবির হয়ে পড়া পরমাণু আলোচনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে সমঝোতা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিকতার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সাময়িক স্থগিত রেখেছিলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বড়াই করে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জিতেছি। আমরা মাত্র একদিনে ভেনিজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানের একেবারে ১২টা বাজিয়ে দিয়েছি।
তারা এখন আমাদের সাথে সমঝোতা করার জন্য মরিয়া। তারা যেকোনো মূল্যে একটি রফা করতে চায়। তাদের সর্বোচ্চ নেতার জানাজার জন্য আমরা তাদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছিলাম, কারণ আমরা দয়ালু।’
একইসাথে ট্রাম্প দাবি করেন, ২৫০ বছরে পদার্পণ করা যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও মুক্ত প্রজাতন্ত্র। তবে দেশের ভেতরেই আবার সাম্যবাদের নতুন হুমকি দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘আমাদের দেশে এখন কমিউনিস্টদের পুনরুত্থান ঘটছে, যার মধ্যে এমন কিছু নবাগতও রয়েছে যারা আমাদের জীবনযাত্রা এবং সাফল্যের সম্পূর্ণ বিরোধী আদর্শ লালন করে। মার্কিন স্বাধীনতার জন্য এই সাম্যবাদ একটি মারাত্মক হুমকি, যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার বা নাইন-ইলেভেনের চেয়েও বড় বিপদ। তবে আমেরিকা কখনোই কোনো কমিউনিস্ট দেশ হবে না।’
এর পরপরই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা তখনই হারবে যদি তারা নিজেরা নিজেদের হারাতে দেয়।
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করতে পারলে আগামী এক শ’ বছরেও রিপাবলিকানরা কোনো নির্বাচনে হারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।