ইমাম খামেনির শোকানুষ্ঠান

সৌদি প্রতিনিধিদের কোরআনের আয়াত দিয়ে কী বার্তা দিলো ইরান

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ এএম

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খুরাইজির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। 

শুরু হয়েছে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ৬ দিনের সম্মাননা জানানোর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদেরকে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়েছে ইরান। 

তবে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সামনে যে আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়েছে তা নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়েছে আলোচনা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআনের যে আয়াতগুলো পাঠ করে শুনানো হয়েছে, তা অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে বাছাই করা হয়েছে। 

কারণ, অনুষ্ঠানে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল উপস্থিত হয় তখন কোরআনের সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত থেকে পাঠ করা হয়। 

যে আয়াতে যুদ্ধরত অবস্থায় মুসলিম ও কাফিরদের ভূমিকার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে। যার মাধ্যমে সৌদি আরবকে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে ইরানের কারীদের তেলওয়াত করে সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতের বাংলা অনুবাদ- ‘তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির। কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তাকে নিজ সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন। নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা করে। পরে তেহরান পাল্টা হামলা করে যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে। 

তবে ইরানের এই যুদ্ধে সৌদি আরবসহ এর প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও কিছুক্ষেত্রে আমেরিকার পক্ষে। 

ধারনা করা হচ্ছে- এ কারণেই হয়ত এমন কৌশল অবলম্বন করেছে ইরান।

HN
আরও পড়ুন