তীব্র জ্বালানি সংকটের জেরে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের (ব্ল্যাকআউট) মুখে পড়েছে কিউবা। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে হঠাৎ করে পুরো দ্বীপ রাষ্ট্রটি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট চারবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হলো দেশটি।
শীতল যুদ্ধকালীন সময়ে নির্মিত কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে লোডশেডিং নিয়মিত ঘটনা হলেও, সাম্প্রতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিদেশি তেল সরবরাহের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বিশেষ করে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ এবং কিউবাকে জ্বালানি দেওয়া দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের মার্কিন হুমকির পর দ্বীপ রাষ্ট্রটির আমদানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে কিউবা তার চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ তেল অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, অব্যাহত এই জ্বালানি ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে, যা গণপরিবহনসহ অন্যান্য জরুরি সেবাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট শক্তির এক-চতুর্থাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, দেশটির চলমান সংকট কাটার কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।