ইরানে মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় দফা বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। ইরানের আকস্মিক হামলা প্রতিহত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোদমে কাজ করছে। দেশজুড়ে শোনা যাওয়া বিকট বিস্ফোরণের শব্দগুলো মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ইরানে হামলা চালানো হয়। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ থাকবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চল চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।